মুগদা-মানিকনগরে ‘চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: মাছ ফারুকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
মুগদা-মানিকনগরে ‘চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেট’ অভিযোগ: মাছ ফারুকের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর মুগদা থানাধীন মানিকনগর ৭ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় রাস্তা দখল, চাঁদাবাজি ও মাদক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ উঠেছে মোহাম্মদ ফারুক ওরফে “মাছ ফারুক”-এর বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ও প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অবৈধ চাঁদা উত্তোলন এবং মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে আসছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল মিয়ার ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করতেন মাছ ফারুক। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি স্থানীয় কিছু বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলে নতুনভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে সফল হয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মানিকনগরের দুই পাশের রাস্তা দখল করে প্রায় ১০০টির বেশি অস্থায়ী দোকান বসানো হয়েছে। এসব দোকান থেকে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হয়। এতে দৈনিক প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ চাঁদাবাজির নেতৃত্বে মাছ ফারুক রয়েছেন বলে দাবি করেন এলাকাবাসী স্থানীয় ৭ নং ওয়ার্ডের বিএনপি সাধারণ সম্পাদক যুবদলের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, শ্রমিক দল, মৎস্যজীবী দল,তাতি দল সাংস্কৃতিক দল ও মহিলা দল সব জায়গা চাদা ম্যানেজ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাছ ফারুক
এছাড়া বিশ্বরোড, চান্দা গলি, কুমিল্লা পট্টি, আনন্দধারা ওয়াসা রোড, পাড় হাউজ কবির , বসুন্ধরা গলি ও বালুর মাঠকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একাধিক মাদকের স্পট। অভিযোগ রয়েছে, এসব এলাকায় বিভিন্ন ব্যক্তি প্রকাশ্যে ইয়াবা, গাঁজা ও অন্যান্য মাদকদ্রব্য বিক্রি করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, সাবেক কমিশনারের ড্রাইভার শফিকুল, রিনা, যুবদল পরিচয়দানকারী সেলিম, লতা, দেলোয়ার ওরফে বুদ্দা, খাস, মিলন, বৃষ্টি, মিন্টু, সাকিল, রাজু, সবুজ ও রুবেলসহ আরও কয়েকজন ব্যক্তি এ সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত।
অন্যদিকে ৭ ও ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মাঝামাঝি মান্ডা প্রথম গলির মোশাররফ মিয়ার বাড়ির আশপাশে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাসলিমা বেগম, শরিফুন বেগম, নাসির, সজিব, মনা, বেলায়েত, টুলু, মাইকেল ও সাগর নামের কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের দাবি, মাদক ব্যবসা থেকে প্রতিদিন প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত চাঁদা উত্তোলন করা হয়। এ টাকা উঠানো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাছ ফারুকের কাছে পৌঁছে যায় বিভিন্ন নেতাদের পকেটে ।
এলাকাবাসী আরও জানান, আগে মাছ বিক্রির ব্যবসার আড়ালে প্রভাব বিস্তার করলেও বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন। বিভিন্ন কেন্দ্রীয় নেতার সঙ্গে ছবি তুলে এলাকায় প্রভাব খাটানোরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এদিকে রাস্তার দুই পাশে অবৈধ দোকান বসানোর কারণে মুগদা-মান্ডা-মানিকনগর এলাকায় তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। ছোট রাস্তা হওয়ায় সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি ও চাঁদাবাজি চললেও কার্যকর অভিযান চোখে পড়ছে না।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, কিছু বিপথগামী রাজনৈতিক নেতা ও অঙ্গসংগঠনের ছত্রছায়ায় এসব কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ আতঙ্ক ও ক্ষোভের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ বিষয়ে মুগদা থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স